বিজয়নগরে কনে সেজে বসে থাকার পরও বর আসেনি

0
315

মুহাম্মদ মহসিন আলী

প্রবাসে থাকা ছেলের সাথে পরিবারের সম্মতিতে প্রায় ৮ মাস পূর্বে মুঠোফোনে বিয়ে হয়। কথা ছিল ছেলে বিদেশ থেকে দেশের ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে উঠিয়ে নেবে। ছেলে দেশে আসারর পর পূর্বের কথা মতো উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়।

সোমবার (১৪ মার্চ) রব পক্ষের আপ্যায়নে কনের বাড়ীতে ঝাকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়। কনের বাড়িতে সব আয়োজন থাকলেও বিয়ের অনুষ্ঠানে বর ও বর পক্ষের লোকজন হাজির হয়নি। ঘটনাটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের।

বিয়ের আসরে কনে বসে আছে, বর না আসার খবর এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিয়ের সকল আয়োজন থাকার পর বর না আসায় কনের বাবা বিজয়নগর থানায় বিচার চেয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ঘণশ্যামপুর গ্রামের জন্টু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৪) প্রবাসে থাকাকালে পারিবারিক সম্মতিক্রমে একই উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের জাবেদ মিয়ার মেয়ের সঙ্গে প্রায় ৮ মাস পূর্বে ভিডিও কলে বিবাহ হয়। বিয়ের পর বর বিদেশ থাকায় বরের বাবা জন্টু মিয়া কনেকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কনেকে বর ছাড়া বরের বাড়িতে নেয়ার পর ৮ মাস যাবৎ শ্বশুর বাড়ির বউ হয়ে আসা যাওয়া করেছে। উভয় পক্ষের লোকদের মধ্যে কথা থাকে যে রাসেল মিয়া দেশে আসার পর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কনেকে বাড়িতে আনবেন।

রাসেল মিয়া ৯ মার্চ দেশে আসার পর উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে সোমবার (১৪ মার্চ) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার দিন তারিখ ধার্য করা হয়। বিয়ের সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর কনের বাবা তার কন্যার সুখের জন্য প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাঠের মালামাল বরের বাড়িতে পাঠায়।

কনের বাবা জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ১৪ মার্চ ছিল। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি দাওয়াত খেতে আসে। হঠাৎ ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে খবর আসে ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক না দিলে এ বিয়েতে আসবে না। বর পক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ।

কনের বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, আমার মেয়ের আংটি পরানোর দিন দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেছি। এত অভাব-অনটনের মাঝেও মেয়ের সুখের জন্য ১৩ মার্চ প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাঠের মালামাল পাত্রের বাড়িতে পাঠায়। সোমবার অনুষ্ঠানের খাওয়া দাওয়া ও বরের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ করি। বর পক্ষের লোকজন আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আমি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। প্রতারকদের সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, এ ঘটনায় কনের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।