বিজয়নগরে সৎ ভাইদের ভাংচুরে ঘর হারা পরিবার

0
458

বিজয়নগরে সৎ ভাইদের ভাংচুরে ঘর হারা পরিবার

সম্পত্তির লোভে ভাড়াটে দুষ্কৃতকারী একটি চক্রের সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তিন দফা হামলা চালিয়ে সৎ ভাইয়ের বসত ঘর ভেঙ্গে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালিয়েছে। নির্যাতিত পরিবারের একাধিক সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম করেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন প্রাণনাশের ভয়ে নির্ঘুম রাতযাপন করছে। এই নারকীয় ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির গোয়ালনগর এলাকার।

সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মরহুম মফিজ উদ্দিনের দুই সংসার। প্রথম সংসারে ইয়ার খান গং দ্বিতীয় সংসারে মুছা মিয়া গং। পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে অনেক দিন থেকে দুপক্ষে বিরোধ চলছে। সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধের মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষ স্থানীয় শাসিল কারকের শরণাপন্ন হলে একাধিকবার চেষ্টা করেও সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় গোয়ালনগর এলাকার শালিস সভার সভাপতি সফিকুল ইসলাম ফালু কাজি (৬০) মুছা মিয়ার পরিবারকে জানান, রাস্তার সাথে থাকা ১০ শতক জায়গা ক্লাবের নামে দলিল করে দিলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। মুছা মিয়ার সম্পত্তি থেকে ফালু কাজি কে ১০ শতক জায়গা দিতে অসম্মতি জানানোর কয়েকদিন পর, ইয়ার খান গং পার্শ্ববর্তী কামালমুড়া ও সেজামুড়া গ্রাম থেকে ভাড়া করা সঙ্গবদ্ধ দুষ্কৃতকারী একটি দল নিয়ে তার সৎ ভাই মুছা মিয়ার পরিবার কে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসত বাড়ী ভাংচুর ও হামলা চালায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার পাহারপুর ইউপির গোয়ালনগর এলাকার মরহুম মফিজ উদ্দিন এর ছেলে ইয়ার খান গং, সৎ ভাইয়ের দখলে থাকা সম্পত্তির লোভে, তাদের বতস ঘর ভেঙ্গে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষে ভাড়া করা সংঘবদ্ধ একটি দুষ্কৃতকারী চক্রকে সাথে নিয়ে তার সৎ মা খোদেজা খাতুন (৬৫) মুছা মিয়া (৩৮) ও তার স্ত্রী মুর্শিদা সরকার (২৮) কে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে মুছা মিয়ার পরিবার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসেছে। এবিষয়ে মুছা মিয়া বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় ২৬ সেপ্টেম্বর ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এই ঘটনায় মুছা মিয়ার স্ত্রী মুর্শিদা সরকার বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সন্ত্রাস দমন (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ ইং (সংশোধনী ২০১৮) এর ৪ ও ৫ ধারায়, পিঃ ৯১৯/২০২১ ইং বিঃ ১০৭/১১৪/১১৭ (গ) ধারায় এলাকার শালিস সভার সভাপতি সফিকুল ইসলাম ফালু কাজি কে প্রধান আসামী করে মামলা করেন। যা মহামান্য আদালতে এখন বিচারাধীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ইয়ার খান,মিজান ও ডলি গং দলবল নিয়ে সম্পত্তির লোভে মুছা মিয়ার পরিবারের উপড় একাধিকবার হামলা চালায়। ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ভাড়া করা দুষ্কৃতকারীদের নিয়ে বড় ঘরটি ভাঙ্গার সময় ঘটনাস্থলে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ফালু কাজি উপস্থিত ছিল। সে ইয়ার খান কে মদদ না দিলে এমন হত না। বলতে গেলে তার পরামর্শ থেকেই এমনটা হয়েছে।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড এর বাছির মেম্বার বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যায়, গিয়ে দেখি পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশের উপস্থিতিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আনুমানিক ১১ টার সময় ঘটনাস্থলে বিজয়নগর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মুহাম্মদ হাসান আসেন। বিস্তারিত শুনে
ওসি বলেন,ফালু কাজি,বাছির মেম্বার, হেবজু মিয়া আপনারা এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তি। খেয়াল রাখবেন এঘটনার বিষয়টি নিয়ে আর যেন বাড়াবাড়ি না হয়। সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে যা যা করা প্রয়োজন আপনারা করেন। ওসি চলে যাওয়ার পর জুম্মার নামাজের সময় কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের উপড় আবার হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমি গিয়ে তাদের কে বাধা দেয়ার পর দুষ্কৃতিকারীরা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তিনি আরও বলেন, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ এর ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মান্না ঘটনাস্থলে এসে বাড়ীঘর ভাংচুর এর দৃশ্য দেখে গেছে।

এলাকাবাসী মনে করেন, গ্রামের সভাপতি ফালু কাজির উপস্থিতিতে, একটি নিরীহ পরিবারের উপড় যে পরিমাণ ভাংচুর ও অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতি সহ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় শালিসকারকদের সাথে নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।